নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ : মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। বুধবার সকালে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) প্রধান অজিত পাওয়ার। বারামতী বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সময় তাঁকে বহনকারী চার্টার্ড বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।
সূত্র মারফত জানা গেছে, আজ সকাল ৮:১০ মিনিটে মুম্বই থেকে বারামতীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল অজিত পাওয়ারের চার্টার্ড বিমান (Bombardier Learjet 45)। জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের ঠিক আগের মুহূর্তে বিমানটি যান্ত্রিক গোলযোগের কবলে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অবতরণের সময় রানওয়েতে আছড়ে পড়ার পর বিমানটিতে পর পর কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা আগুনের গোলায় পরিণত হয়। ডিজিসিএ (DGCA) জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা অজিত পাওয়ার সহ মোট ৫ জনই প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ছিলেন দুইজন পাইলট এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী ও সহকারী।
অজিত পাওয়ারের এই আকস্মিক মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর শোকবার্তায় অজিত পাওয়ারকে "জননেতা" হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মহারাষ্ট্রের উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস এই দিনটিকে মহারাষ্ট্রের জন্য একটি "অত্যন্ত কঠিন দিন" বলে বর্ণনা করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ ও দেশের অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
মহারাষ্ট্র সরকার ইতিমধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাজ্যে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক এবং ডিজিসিএ এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি দৃশ্যমানতার অভাব এই দুর্ঘটনার মূল কারণ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক নজরে অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক জীবন
* জন্ম: ১৯৫৯ সাল, আহমেদনগর জেলা।
* পরিচয়: প্রবীণ নেতা শরদ পাওয়ারের ভাইপো এবং মহারাষ্ট্রের দীর্ঘকালীন উপ-মুখ্যমন্ত্রী।
* গড়: বারামতীকে নিজের রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন তিনি।
* অবদান: প্রশাসনিক দক্ষতা এবং তৃণমূল স্তরের মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগের জন্য তিনি রাজনৈতিক মহলে "দাদা" নামে পরিচিত ছিলেন।

No comments:
Post a Comment