Photos

5-latest-1110px-slider

বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের প্রয়াণ: শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল


নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ : 
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। বুধবার সকালে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) প্রধান অজিত পাওয়ার। বারামতী বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সময় তাঁকে বহনকারী চার্টার্ড বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।
সূত্র মারফত জানা গেছে, আজ সকাল ৮:১০ মিনিটে মুম্বই থেকে বারামতীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল অজিত পাওয়ারের চার্টার্ড বিমান (Bombardier Learjet 45)। জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের ঠিক আগের মুহূর্তে বিমানটি যান্ত্রিক গোলযোগের কবলে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অবতরণের সময় রানওয়েতে আছড়ে পড়ার পর বিমানটিতে পর পর কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা আগুনের গোলায় পরিণত হয়। ডিজিসিএ (DGCA) জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা অজিত পাওয়ার সহ মোট ৫ জনই প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ছিলেন দুইজন পাইলট এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী ও সহকারী।

অজিত পাওয়ারের এই আকস্মিক মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর শোকবার্তায় অজিত পাওয়ারকে "জননেতা" হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মহারাষ্ট্রের উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস এই দিনটিকে মহারাষ্ট্রের জন্য একটি "অত্যন্ত কঠিন দিন" বলে বর্ণনা করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ ও দেশের অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
মহারাষ্ট্র সরকার ইতিমধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাজ্যে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক এবং ডিজিসিএ এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি দৃশ্যমানতার অভাব এই দুর্ঘটনার মূল কারণ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এক নজরে অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক জীবন
 * জন্ম: ১৯৫৯ সাল, আহমেদনগর জেলা।
 * পরিচয়: প্রবীণ নেতা শরদ পাওয়ারের ভাইপো এবং মহারাষ্ট্রের দীর্ঘকালীন উপ-মুখ্যমন্ত্রী।
 * গড়: বারামতীকে নিজের রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন তিনি।
 * অবদান: প্রশাসনিক দক্ষতা এবং তৃণমূল স্তরের মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগের জন্য তিনি রাজনৈতিক মহলে "দাদা" নামে পরিচিত ছিলেন।

লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ: ব্রিগেড আজ সিক্ত শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার পুণ্যমন্ত্রে

 

 ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত 'লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ' অনুষ্ঠান


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শীতের মিঠে রোদে মাখা রবিবার সকালে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। রাজনৈতিক স্লোগান বা সমাবেশের পরিবর্তে আজ এই ময়দান প্রকম্পিত হলো শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার পুণ্য শ্লোকে। কয়েক লক্ষ ভক্তের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হলো বহু প্রতীক্ষিত 'লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ' অনুষ্ঠান।

গৈরিক জোয়ারে ভাসল তিলোত্তমা ভোর হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে ব্রিগেডে আসতে শুরু করেন। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি এবং 'জয় শ্রী কৃষ্ণ' ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ময়দান চত্বর। হাজার হাজার মানুষের পরনে ছিল শ্বেতশুভ্র এবং গৈরিক পোশাক, যা গোটা ব্রিগেডকে এক আধ্যাত্মিক রূপ দান করে।

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন মঠ ও মন্দিরের সাধু-সন্তরা। অনুষ্ঠানের মূল সূচি অনুযায়ী:
 * শঙ্খধ্বনি: ১ লক্ষেরও বেশি মানুষ একসাথে শঙ্খ বাজিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।
 * পাঁচটি অধ্যায় পাঠ: গীতার পাঁচটি বিশেষ অধ্যায় সমবেত কণ্ঠে পাঠ করা হয়।
 * সাধু সমাগম: দ্বারকা সারদা পীঠের জগৎগুরু শঙ্করাচার্য স্বামী সদানন্দ সরস্বতী মহারাজের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এক ভিন্ন মাত্রা দান করে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো জাত-পাত ও ভেদাভেদ ভুলে সনাতন ধর্মের শাশ্বত বাণীকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং বিশ্বশান্তির কামনা করা। মঞ্চ থেকে সাধুরা বলেন, গীতা কোনো বিশেষ ধর্মের নয়, এটি সমগ্র মানবজাতির দিশারি।
এত বিপুল জনসমাগম সত্ত্বেও ব্রিগেডের পরিবেশ ছিল যথেষ্ট সুশৃঙ্খল। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়। স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় পানীয় জল ও প্রাথমিক চিকিৎসার সুব্যবস্থাও ছিল চোখে পড়ার মতো।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই অনুষ্ঠানে আসার কথা থাকলেও ব্যস্ততার কারণে তিনি আসতে পারেননি, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। যদিও এই অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক বলে দাবি করা হয়েছিল, তবুও লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে হিন্দুত্বের এই জাগরণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। আজকের এই অনুষ্ঠান যেন প্রমাণ করে দিল, তিলোত্তমার বুকেই আধ্যাত্মিকতা এবং আধুনিকতা পাশাপাশি অবস্থান করে। ব্রিগেডের ঘাসে শেষ বিকেলে যখন রোদ ফিকে হয়ে এল, তখন লক্ষ লক্ষ ভক্তের মনে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল একটাই বাণী— "ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।"

##নিউজ কলরবের সাথে থাকুন সব খবর সবার আগে পেতে।##

'বাবরি মসজিদ' বিতর্কে সাসপেন্ড ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর!


তৌসিফ মন্ডল (নিউজ কলরব), মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে সাসপেন্ড করল তৃণমূল কংগ্রেস। বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা এবং তার পরবর্তী একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যের জেরেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে জানান রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

বিতর্কের সূত্রপাত বাবরি মসজিদ নির্মাণ ঘোষণার পর থেকেই। বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সম্প্রতি আগামী ৬ ডিসেম্বর (বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন) মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করার কথা ঘোষণা করেছিলেন।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক মুর্শিদাবাদের হুমায়ুননামা:

দলীয় হুঁশিয়ারি: তৃণমূল এই পদক্ষেপকে 'সাম্প্রদায়িক উস্কানি' আখ্যা দিয়ে বিধায়ককে তিনবার সতর্ক করেছিল বলে জানা গিয়েছে।

অনড় বিধায়ক: তবে হুমায়ুন কবীর নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ২ লক্ষ মানুষ ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং তিনি কারোও তোয়াক্কা করেন না।

 পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং হুমকি

বাবরি মসজিদ তৈরির জন্য জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসন অসহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ তুলে বিধায়ক পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বেলডাঙার এসডিপিওর কলার ধরার হুমকি দেন এবং পুলিশকে 'আরএসএসের দালাল' বলেও কটাক্ষ করেন।

এছাড়াও তিনি ৬ ডিসেম্বর রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত জাতীয় সড়ক 'মুসলিমদের দখলে' রাখার হুঁশিয়ারিও দেন।

 সাসপেনশন এবং পাল্টা হুঁশিয়ারি : বৃহস্পতিবার বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা শুরুর আগেই যখন হুমায়ুন কবীর সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তখনই সাসপেনশনের খবর প্রকাশ্যে আসে।

দলীয় ঘোষণা: ফিরহাদ হাকিম বলেন, "হঠাৎ বাবরি মসজিদ কেন? আমরা আগেই তাঁকে সতর্ক করে দিয়েছিলাম। তাই আমাদের দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করছি।" তিনি আরও বলেন, দল কোনোভাবেই 'সাম্প্রদায়িক উস্কানি' বরদাস্ত করবে না।

হুমায়ুনের প্রতিক্রিয়া: সাসপেন্ড হওয়ার পর হুমায়ুন কবীর সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন এবং তাকে 'আরএসএস মার্কা মুখ্যমন্ত্রী' বলে কটাক্ষ করেন। তিনি আরও ঘোষণা করেন, কাল (শুক্রবার) অথবা আগামী সোমবার তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেবেন এবং ২২ ডিসেম্বর নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করবেন।

এই ঘটনা বর্তমানে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনে হুমায়ুন কবীরের পদক্ষেপ এবং তৃণমূলের কৌশল কী হয়, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।


প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরি বহাল: কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের ঐতিহাসিক রায়



নিউজ কলরব (কলকাতা), ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫:  কলকাতা হাইকোর্টের এক ঐতিহাসিক রায়ে প্রাথমিকে প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল রইল। সিঙ্গেল বেঞ্চের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের চাকরি বাতিলের নির্দেশকে খারিজ করে দিয়েছে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ। এই রায়ে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই এবং অনিশ্চয়তার মুখে থাকা হাজার হাজার শিক্ষক স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক প্রাথমিক নিয়োগ মামলার বিস্তারিত কিছু তথ্য: 

​মামলার পটভূমি ও সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ

​২০১৪ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বেনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এই নিয়োগের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, এই নিয়োগে অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকদের চাকরি দেওয়া হয়। এই মামলা কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চে উঠলে, ২০২৩ সালের মে মাসে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রায় ৩২ হাজার অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন।

​বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ ছিল, চাকরি বাতিল হলেও শিক্ষকরা স্কুলে যাবেন এবং তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। যোগ্য প্রার্থীরাই কেবল চাকরি পাবেন।

ডিভিশন বেঞ্চের চূড়ান্ত রায়

​বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (Primary Education Board) হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে যায়। দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ আজ (বুধবার) তাদের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে।

  • রায় খারিজ: ডিভিশন বেঞ্চ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের চাকরি বাতিলের নির্দেশটি খারিজ করে দিয়েছে।
  • চাকরি বহাল: এর ফলে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহাল রইল।
  • আদালতের পর্যবেক্ষণ: আদালত পর্যবেক্ষণ করে, প্রায় ৯ বছর পর একসঙ্গে এতজনের চাকরি কেড়ে নেওয়া হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে এবং এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

​শিক্ষক মহলে স্বস্তি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

​দীর্ঘদিন ধরে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় থাকা ৩২ হাজার শিক্ষক এই রায়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। শিক্ষক ও তাদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে খুশির হাওয়া।

​অন্যদিকে, এই রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে আলোচনা। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে এবং প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিরোধীরা অবশ্য এখনও দুর্নীতির অভিযোগের উপর জোর দিয়ে আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে।

​এই রায়ের পর মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায় কিনা, এখন সেটাই দেখার। তবে আপাতদৃষ্টিতে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি বিশাল সংখ্যক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর হলো।




দিল্লিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, লালকেল্লার সামনে রক্তাক্ত রাজধানী; দেশজুড়ে হাই অ্যালার্ট



নয়াদিল্লি: সোমবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে জনবহুল এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, একটি গাড়িতে হওয়া এই বিস্ফোরণে অন্তত আট থেকে তেরো জন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কমপক্ষে ২৪ জন আহত হয়েছেন (এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত)। এই ঘটনা রাজধানীতে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।


এক নজরে ঘটনার বিবরণ দেখানেওয়া যাক:
 * বিস্ফোরণের স্থান: দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নং ১-এর কাছে, সুভাষ মার্গ ট্রাফিক সিগনালের কাছে।
 * সময়: সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিট নাগাদ।
 * বিস্ফোরণের প্রকৃতি: জানা গেছে, একটি সাদা রঙের হুন্ডাই আই-২০ গাড়ি সিগন্যালের সামনে ধীরে গতিতে এসে থামতেই বিস্ফোরণ ঘটে।
 * ক্ষয়ক্ষতি: বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, আশেপাশের বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায় এবং জানালার কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। রাস্তার লাইটপোস্টগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল দেহাংশ।


 ঘটনার পরপরই দিল্লি জুড়ে 'হাই অ্যালার্ট' জারি করা হয়েছে। এছাড়াও মুম্বই ও কলকাতাতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নাকা চেকিং ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ, ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA), ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (NSG), এবং ডিরেক্টরেট অব ফরেনসিক সায়েন্সেস ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।
বিস্ফোরণের ধরন এবং এর আগে ফরিদাবাদে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাশকতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।


বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটির নম্বর প্লেট (হরিয়ানার) সূত্র ধরে মহম্মদ সলমন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তার সঙ্গে কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর যোগ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বিস্ফোরণের ঠিক পিছনের গাড়িতে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সিগন্যালে গাড়িটি থামার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি হঠাৎ করে 'আগুনের গোলা' দেখতে পান এবং আতঙ্কে দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যান। এই ভয়াবহ ঘটনা দিল্লিবাসীর মনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহল।

আগামীকাল থেকেই বাংলায় চালু SIR ! ঘোষণা মুখ্য নির্বাচন কমিশনের


নিউজ কলরব ডেস্ক (২৭ অক্টোবর, ২০২৫) : নির্বাচন কমিশন এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে দেশব্যাপী ভোটার তালিকা সংশোধনের (Special Intensive Revision - SIR) দ্বিতীয় পর্বের সময়সূচি ঘোষণা করলো সোমবার। নির্বাচন কমিশনের এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরলসহ আগামী বছরগুলিতে নির্বাচন হতে চলা রাজ্যগুলির ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলবে।

নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে এই সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার জানান যে, দেশের মোট ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) দ্বিতীয় পর্ব ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ থেকে শুরু হবে। যে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই কর্মসূচি শুরু হচ্ছে সেগুলি হল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, গোয়া, পুদুচেরি, ছত্তিশগড়, গুজরাট, কেরল, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং লক্ষদ্বীপ।

সিইসি জ্ঞানেশ কুমার আরও বলেন, এই ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রায় ৫১ কোটি ভোটার রয়েছেন এবং এই কাজে ৫.৩৩ লক্ষ বুথ লেভেল অফিসার (BLO) এবং রাজনৈতিক দলগুলির মনোনীত ৭ লক্ষের বেশি বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA) নিযুক্ত থাকবেন।

SIR-এর মূল বিষয়গুলি এক নজরে দেখে নেওয়া যাক :-

 * ভোটার তালিকা হিমায়িত: আজ রাত থেকেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে ভোটার তালিকা 'হিমায়িত' (frozen) করা হবে।

 * গণনা ফর্ম বিতরণ: ২৮ অক্টোবর থেকে ভোটারদের কাছে তাঁদের সব তথ্য সম্বলিত একটি অনন্য গণনা ফর্ম (Enumeration Form) বিতরণ শুরু হবে।

 * কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ: SIR-এর দ্বিতীয় পর্বের জন্য ভোটগ্রহণ কর্মীদের প্রশিক্ষণ মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে।

 * রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক: সিইসি সব মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের আগামী দু'দিনের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করে SIR প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

 * চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ: সংশোধনের পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকায় থাকা অসঙ্গতি দূর করা, মৃত এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্যই এই নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনগুলিতে একটি নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাইক চুরির পান্ডাকে গ্রেপ্তার করল পলাশীপাড়া থানার পুলিশ


নিউজ কলরব ; পলাশিপাড়া, নদীয়া :  পলাশীপাড়া থানার একটি বাইক চুরির পান্ডাকে নাকাশীপাড়া থানার বিক্রমপুর থেকে গ্রেফতার করলো পলাশীপাড়া থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায় গত দুসরা আগস্ট পলাশীপাড়া থানার ধাওড়া পাড়া এলাকা থেকে নওশাদ শেক নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে রাতের বেলায় মোটরবাইক চুরি হয়। এই ঘটনার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে সোমবার রাতে নাকাশিপাড়া থানার  বিক্রমপুর থেকে আতির শেখ নামে বছর চল্লিশের এক চোরা কারবারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বাইক চুরির তদন্তে পুলিশ জানতে পারে এই এলাকার বাইক চুরির একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত এই আতির শেখ, চুরি হওয়া বাইক চোরদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে বন্ধক অথবা কিনে নিতো, সেই বাইকের বিভিন্ন পার্টস পরিবর্তন করে বিক্রি করত, এখনো তার কাছে বেশকিছু চুরির বাইক মজুদ রয়েছে বলে জানা যায়, এই সূত্রের মাধ্যমে পুলিশ মটর বাইক চুরি চক্রের মাথায় পৌঁছাতে চাই বলে জানান পলাশীপাড়া থানার ওসি। 

মঙ্গলবার ধৃত আতির শেখকে তেহট্ট মহকুমা আদালতে পাঠালো পুলিশ, তাকে পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন কয়া হবে বলে জানা যায়। এবং ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্য কোন অভিযোগ রয়েছে কিনা সে বিষয়ে খতিয়ে দেখছে পলাশীপাড়া থানার পুলিশ।

দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে ৫ অভিযুক্ত গ্রেফতার, জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি


নিউজ কলরব,( ১৩ অক্টোবর, ২০২৫) দুর্গাপুর: দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী গণধর্ষণ কাণ্ডে দ্রুত পদক্ষেপ করে মোট পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত সকলেই এখন পুলিশি হেফাজতে।

গত শুক্রবার রাতে (১০ অক্টোবর, ২০২৫) দুর্গাপুরের শোভাপুরের কাছে একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী এক সহপাঠীর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে বেরিয়েছিলেন। অভিযোগ, রাত আনুমানিক ৮.৩০টা থেকে ৯টার মধ্যে কলেজের কাছাকাছি একটি জঙ্গলের ধারে কয়েকজন যুবক তাঁদের উত্ত্যক্ত করে এবং এরপর টেনে-হিঁচড়ে ছাত্রীটিকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে। অভিযুক্তরা নির্যাতিতার মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার পরই নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আসানসোল মহিলা থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে। শনিবার রাতে মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে এবং অন্যান্য সূত্র ধরে পুলিশ দ্রুত ৩ জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতরা হলো— শেখ রিয়াজউদ্দিন, আপু বারি এবং ফিরদৌস শেখ। এদের মধ্যে ফিরদৌস শেখ দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের 'গ্রুপ ডি' কর্মী।

রবিবার তিন অভিযুক্তকে দুর্গাপুর আদালতে তোলা হলে তাদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর আরও দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ সোমবার সকালে আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের নাম হলো— শেখ নাসিরউদ্দিন এবং শেখ শফিকুল। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতেই মোট পাঁচ অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তদন্তের অগ্রগতিতে পুলিশের একাধিক দল বিরজা গ্রাম এবং আশপাশের জঙ্গলে ড্রোন উড়িয়েও তল্লাশি চালিয়েছে। নির্যাতিতার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনটিও অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় নির্যাতিতার সহপাঠী (যার সঙ্গে তিনি বেরিয়েছিলেন) এবং নাসিরউদ্দিন (যার মোটরবাইক অভিযুক্তরা ব্যবহার করেছিল বলে জানা যায়) সহ মোট কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষা করানো হবে এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হতে পারে। এই জঘন্য অপরাধের দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে রাজ্যের বিভিন্ন মহলে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।

দুর্গাপুরে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, তোলপাড় কলেজ

 


নিউজ কলরব; ১১ অক্টোবর, ২০২৫, দুর্গাপুর : আরজিকর , কসবা ল কলেজের প্রতিচ্ছবি এবার পশ্চিম বর্ধমানে। দুর্গাপুরে একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের এক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। শুক্রবার রাতে এই ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনা রাজ্যের শিক্ষাঙ্গন এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টা নাগাদ ওই ছাত্রী এক পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে কলেজের ক্যাম্পাস থেকে বাইরে খাবার খেতে বেরিয়েছিলেন। অভিযোগ, ক্যাম্পাসের গেটের কাছেই এক বা একাধিক ব্যক্তি তাঁকে জোর করে টেনে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালের পিছনের একটি নির্জন এলাকায় গণধর্ষণ করে। নির্যাতিতা ছাত্রী ওড়িশার জলেশ্বরের বাসিন্দা।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তদন্ত শুরু করে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ছাত্রীকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই মেডিক্যাল কলেজের কর্মী এবং ছাত্রীর সঙ্গে থাকা পুরুষ বন্ধু সহ একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

নির্যাতিতার বাবা জানিয়েছেন, মেয়ের বন্ধুর কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি দুর্গাপুরে আসেন। তিনি অভিযোগ করেন, মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পেয়েও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো সহযোগিতা পাননি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। তিনি তাঁর মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার চেয়েছেন।

প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে এবং ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে। এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাঙ্গনে নারীদের সুরক্ষার অভাবের বিষয়টি আবার সামনে এনেছে। জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW)-এর একটি দলও দুর্গাপুর আসছে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরও কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত রিপোর্ট চেয়েছে।

তামিলনাড়ুর কারুরে বিজয়ের রাজনৈতিক সমাবেশে পদদলিত হয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু, আহত বহু





কারুর, তামিলনাড়ু (২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) : 
 তামিলনাড়ুর কারুর জেলায় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ বিজয় থলপতির  রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগামের (TVK) একটি জনসভায় পদদলিত হয়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৬ জন নারী ও ৮ শিশু রয়েছে।



শনিবার কারুরের ভেলুসামিপুরাম এলাকায় এই জনসভাটি আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ৩০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের অনুমতি থাকলেও, জানা যায় যে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিল। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিট নাগাদ যখন বিজয় বক্তব্য রাখছিলেন, তখন হঠাৎই বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে ভিড়ের মধ্যে তীব্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অনেক মানুষ একসাথে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যেতে চাইলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ভিড়ের চাপে অসংখ্য মানুষ মাটিতে পড়ে যান এবং পদদলিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এর ফলে অনেকেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহতদের দ্রুত কারুর সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছু আহতকে আশেপাশের বেসরকারি হাসপাতালেও পাঠানো হয়।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদিও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

এই ঘটনার পর জনসভার আয়োজকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠছে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

উৎসবের আগে বড় ঘোষণা মোদীর GST তে বিশেষ ছাড়

নিউজ কলরব ডেস্ক : মহালয়ার দিনে পিতৃ তর্পনের মাধ্যমে বাংলায় শারদ উৎসবের সূচনা হয়েছে, আর মহালয়ার এই পূর্ণ তিথিতে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর জন্য বিরাট ঘোষণা করলেন, শারদ উৎসব এবং দীপাবলীর আগে দেশবাসীর জন্য বিশেষ উপহার জিএসটিতে বিশেষ ছাড় কেন্দ্র সরকারের।

সোমবার থেকে বিরাট কমছে জিনিসপত্রের দাম। জিএসটি হার ৫ ও ১৮ শতাংশ সেইসঙ্গে বহু জিনিসের জিএসটি হয়ে গেল শুন্য, মানে ট্যাক্স ফ্রি। কি কি জিনিস দেখুন পুরো তালিকা। দুধ, ছানা, পনির, পিজ্জা, পাউরুটি, রেডি টু ইট পরোট, কুলচা। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ৩৩ টি জীবন দায়ী ওষুধ যার মধ্যে তিনটি  ক্যান্সার পথ্যও রয়েছে।

 এছাড়াও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য এবং জীবন বীমা পলিসিতেও জিএসটি  শুন্য। এছাড়াও শিক্ষা সংক্রান্ত জিনিসপত্র হয়েছে করমুক্ত। যার মধ্যে রয়েছে পেন্সিল, কাটার, রাবার, নোটবুক, মানচিত্র চাট, গ্লোব, অ্যাটলাস, গ্রাফ বই এবং ল্যাবরেটরি নোটবুক। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণায় কিছুটা হলেও উৎসবের আগে স্বস্তির বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

এই সমস্ত জিনিসপত্রের জিএসটি ফ্রি হওয়ায় মধ্যবিত্তের সংসার খরচের বহর অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কলকাতার মেট্রো মানচিত্রে নতুন দিগন্ত, তিন রুটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী


কলকাতা, ১৭ আগস্ট: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে কলকাতার মেট্রো পরিষেবার পরিধি আরও বাড়তে চলেছে। আগামী ২২শে আগস্ট তিনটি নতুন মেট্রো রুটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই তিনটি রুট চালু হলে শহরের গণপরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মেট্রো রেল সূত্রের খবর অনুযায়ী, যে তিনটি রুটের উদ্বোধন হতে চলেছে, সেগুলি হলো: গ্রিন লাইন,অরেঞ্জ লাইন এবং ইয়েলো লাইন।

 * গ্রিন লাইন (ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো): শিয়ালদহ - এসপ্ল্যানেড: এই অংশের উদ্বোধন হলে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো সম্পূর্ণ চালু হবে এবং হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ৫ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন মেট্রো পরিষেবা শুরু হবে। বিশেষত বউবাজারে জটিলতার কারণে এই রুটের একাংশ এতদিন আটকে ছিল। এই লাইন চালু হলে শিয়ালদহ এবং হাওড়া, দুই গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন মেট্রো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরাসরি যুক্ত হবে।

 * অরেঞ্জ লাইন: হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (রুবি ক্রসিং) - বেলেঘাটা: কবি সুভাষ থেকে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (রুবি) পর্যন্ত অরেঞ্জ লাইনের পরিষেবা আগেই শুরু হয়েছিল। এবার বেলেঘাটা পর্যন্ত এই লাইন সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর ফলে ইএম বাইপাসের বড় একটি অংশ মেট্রো পরিষেবার আওতায় আসবে এবং দক্ষিণ ও পূর্ব কলকাতার বাসিন্দাদের যাতায়াত আরও সহজ হবে।

 * ইয়েলো লাইন: নোয়াপাড়া - জয় হিন্দ (কলকাতা বিমানবন্দর): এই রুটের উদ্বোধন কলকাতার জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এর মাধ্যমে কলকাতার বুকে প্রথম মেট্রো-বিমানবন্দর সংযোগ স্থাপিত হতে চলেছে। নোয়াপাড়া থেকে মেট্রোয় সরাসরি দমদম ক্যান্টনমেন্ট, যশোর রোড হয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছানো যাবে। এটি উত্তর শহরতলির বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক হবে।

রেল মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ২২শে আগস্ট দমদম থেকে প্রধানমন্ত্রী এই রুটগুলির উদ্বোধন করবেন। এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এই আমন্ত্রণকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, কারণ অতীতে মেট্রোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক দেখা গিয়েছিল। এবার সেই বিতর্ক এড়াতে আগাম আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

শহরবাসীর দীর্ঘদিনের আশা পূরণের পর এই মেট্রো রুটগুলি দুর্গাপূজার আগেই কলকাতার যাতায়াত ব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।