এক নজরে দেখে নেওয়া যাক প্রাথমিক নিয়োগ মামলার বিস্তারিত কিছু তথ্য:
মামলার পটভূমি ও সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ
২০১৪ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বেনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এই নিয়োগের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, এই নিয়োগে অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকদের চাকরি দেওয়া হয়। এই মামলা কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চে উঠলে, ২০২৩ সালের মে মাসে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রায় ৩২ হাজার অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ ছিল, চাকরি বাতিল হলেও শিক্ষকরা স্কুলে যাবেন এবং তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। যোগ্য প্রার্থীরাই কেবল চাকরি পাবেন।
ডিভিশন বেঞ্চের চূড়ান্ত রায়
বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (Primary Education Board) হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে যায়। দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ আজ (বুধবার) তাদের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে।
- রায় খারিজ: ডিভিশন বেঞ্চ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের চাকরি বাতিলের নির্দেশটি খারিজ করে দিয়েছে।
- চাকরি বহাল: এর ফলে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহাল রইল।
- আদালতের পর্যবেক্ষণ: আদালত পর্যবেক্ষণ করে, প্রায় ৯ বছর পর একসঙ্গে এতজনের চাকরি কেড়ে নেওয়া হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে এবং এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।
শিক্ষক মহলে স্বস্তি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
দীর্ঘদিন ধরে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় থাকা ৩২ হাজার শিক্ষক এই রায়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। শিক্ষক ও তাদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে খুশির হাওয়া।
অন্যদিকে, এই রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে আলোচনা। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে এবং প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিরোধীরা অবশ্য এখনও দুর্নীতির অভিযোগের উপর জোর দিয়ে আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে।
এই রায়ের পর মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায় কিনা, এখন সেটাই দেখার। তবে আপাতদৃষ্টিতে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি বিশাল সংখ্যক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর হলো।

No comments:
Post a Comment