'বাবরি মসজিদ' বিতর্কে সাসপেন্ড ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর!


তৌসিফ মন্ডল (নিউজ কলরব), মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে সাসপেন্ড করল তৃণমূল কংগ্রেস। বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা এবং তার পরবর্তী একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যের জেরেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে জানান রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

বিতর্কের সূত্রপাত বাবরি মসজিদ নির্মাণ ঘোষণার পর থেকেই। বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সম্প্রতি আগামী ৬ ডিসেম্বর (বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন) মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করার কথা ঘোষণা করেছিলেন।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক মুর্শিদাবাদের হুমায়ুননামা:

দলীয় হুঁশিয়ারি: তৃণমূল এই পদক্ষেপকে 'সাম্প্রদায়িক উস্কানি' আখ্যা দিয়ে বিধায়ককে তিনবার সতর্ক করেছিল বলে জানা গিয়েছে।

অনড় বিধায়ক: তবে হুমায়ুন কবীর নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ২ লক্ষ মানুষ ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং তিনি কারোও তোয়াক্কা করেন না।

 পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং হুমকি

বাবরি মসজিদ তৈরির জন্য জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসন অসহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ তুলে বিধায়ক পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বেলডাঙার এসডিপিওর কলার ধরার হুমকি দেন এবং পুলিশকে 'আরএসএসের দালাল' বলেও কটাক্ষ করেন।

এছাড়াও তিনি ৬ ডিসেম্বর রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত জাতীয় সড়ক 'মুসলিমদের দখলে' রাখার হুঁশিয়ারিও দেন।

 সাসপেনশন এবং পাল্টা হুঁশিয়ারি : বৃহস্পতিবার বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা শুরুর আগেই যখন হুমায়ুন কবীর সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তখনই সাসপেনশনের খবর প্রকাশ্যে আসে।

দলীয় ঘোষণা: ফিরহাদ হাকিম বলেন, "হঠাৎ বাবরি মসজিদ কেন? আমরা আগেই তাঁকে সতর্ক করে দিয়েছিলাম। তাই আমাদের দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করছি।" তিনি আরও বলেন, দল কোনোভাবেই 'সাম্প্রদায়িক উস্কানি' বরদাস্ত করবে না।

হুমায়ুনের প্রতিক্রিয়া: সাসপেন্ড হওয়ার পর হুমায়ুন কবীর সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন এবং তাকে 'আরএসএস মার্কা মুখ্যমন্ত্রী' বলে কটাক্ষ করেন। তিনি আরও ঘোষণা করেন, কাল (শুক্রবার) অথবা আগামী সোমবার তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেবেন এবং ২২ ডিসেম্বর নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করবেন।

এই ঘটনা বর্তমানে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনে হুমায়ুন কবীরের পদক্ষেপ এবং তৃণমূলের কৌশল কী হয়, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।


No comments:

Post a Comment