লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ: ব্রিগেড আজ সিক্ত শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার পুণ্যমন্ত্রে

 

 ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত 'লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ' অনুষ্ঠান


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শীতের মিঠে রোদে মাখা রবিবার সকালে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। রাজনৈতিক স্লোগান বা সমাবেশের পরিবর্তে আজ এই ময়দান প্রকম্পিত হলো শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার পুণ্য শ্লোকে। কয়েক লক্ষ ভক্তের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হলো বহু প্রতীক্ষিত 'লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ' অনুষ্ঠান।

গৈরিক জোয়ারে ভাসল তিলোত্তমা ভোর হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে ব্রিগেডে আসতে শুরু করেন। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি এবং 'জয় শ্রী কৃষ্ণ' ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ময়দান চত্বর। হাজার হাজার মানুষের পরনে ছিল শ্বেতশুভ্র এবং গৈরিক পোশাক, যা গোটা ব্রিগেডকে এক আধ্যাত্মিক রূপ দান করে।

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন মঠ ও মন্দিরের সাধু-সন্তরা। অনুষ্ঠানের মূল সূচি অনুযায়ী:
 * শঙ্খধ্বনি: ১ লক্ষেরও বেশি মানুষ একসাথে শঙ্খ বাজিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।
 * পাঁচটি অধ্যায় পাঠ: গীতার পাঁচটি বিশেষ অধ্যায় সমবেত কণ্ঠে পাঠ করা হয়।
 * সাধু সমাগম: দ্বারকা সারদা পীঠের জগৎগুরু শঙ্করাচার্য স্বামী সদানন্দ সরস্বতী মহারাজের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এক ভিন্ন মাত্রা দান করে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো জাত-পাত ও ভেদাভেদ ভুলে সনাতন ধর্মের শাশ্বত বাণীকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং বিশ্বশান্তির কামনা করা। মঞ্চ থেকে সাধুরা বলেন, গীতা কোনো বিশেষ ধর্মের নয়, এটি সমগ্র মানবজাতির দিশারি।
এত বিপুল জনসমাগম সত্ত্বেও ব্রিগেডের পরিবেশ ছিল যথেষ্ট সুশৃঙ্খল। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়। স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় পানীয় জল ও প্রাথমিক চিকিৎসার সুব্যবস্থাও ছিল চোখে পড়ার মতো।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই অনুষ্ঠানে আসার কথা থাকলেও ব্যস্ততার কারণে তিনি আসতে পারেননি, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। যদিও এই অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক বলে দাবি করা হয়েছিল, তবুও লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে হিন্দুত্বের এই জাগরণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। আজকের এই অনুষ্ঠান যেন প্রমাণ করে দিল, তিলোত্তমার বুকেই আধ্যাত্মিকতা এবং আধুনিকতা পাশাপাশি অবস্থান করে। ব্রিগেডের ঘাসে শেষ বিকেলে যখন রোদ ফিকে হয়ে এল, তখন লক্ষ লক্ষ ভক্তের মনে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল একটাই বাণী— "ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।"

##নিউজ কলরবের সাথে থাকুন সব খবর সবার আগে পেতে।##

No comments:

Post a Comment