নয়াদিল্লি: সোমবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে জনবহুল এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, একটি গাড়িতে হওয়া এই বিস্ফোরণে অন্তত আট থেকে তেরো জন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কমপক্ষে ২৪ জন আহত হয়েছেন (এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত)। এই ঘটনা রাজধানীতে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এক নজরে ঘটনার বিবরণ দেখানেওয়া যাক:
* বিস্ফোরণের স্থান: দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নং ১-এর কাছে, সুভাষ মার্গ ট্রাফিক সিগনালের কাছে।
* সময়: সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিট নাগাদ।
* বিস্ফোরণের প্রকৃতি: জানা গেছে, একটি সাদা রঙের হুন্ডাই আই-২০ গাড়ি সিগন্যালের সামনে ধীরে গতিতে এসে থামতেই বিস্ফোরণ ঘটে।
* ক্ষয়ক্ষতি: বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, আশেপাশের বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায় এবং জানালার কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। রাস্তার লাইটপোস্টগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল দেহাংশ।
ঘটনার পরপরই দিল্লি জুড়ে 'হাই অ্যালার্ট' জারি করা হয়েছে। এছাড়াও মুম্বই ও কলকাতাতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নাকা চেকিং ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ, ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA), ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (NSG), এবং ডিরেক্টরেট অব ফরেনসিক সায়েন্সেস ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।
বিস্ফোরণের ধরন এবং এর আগে ফরিদাবাদে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাশকতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটির নম্বর প্লেট (হরিয়ানার) সূত্র ধরে মহম্মদ সলমন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তার সঙ্গে কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর যোগ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বিস্ফোরণের ঠিক পিছনের গাড়িতে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সিগন্যালে গাড়িটি থামার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি হঠাৎ করে 'আগুনের গোলা' দেখতে পান এবং আতঙ্কে দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যান। এই ভয়াবহ ঘটনা দিল্লিবাসীর মনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহল।




No comments:
Post a Comment