দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে ৫ অভিযুক্ত গ্রেফতার, জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি


নিউজ কলরব,( ১৩ অক্টোবর, ২০২৫) দুর্গাপুর: দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী গণধর্ষণ কাণ্ডে দ্রুত পদক্ষেপ করে মোট পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত সকলেই এখন পুলিশি হেফাজতে।

গত শুক্রবার রাতে (১০ অক্টোবর, ২০২৫) দুর্গাপুরের শোভাপুরের কাছে একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী এক সহপাঠীর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে বেরিয়েছিলেন। অভিযোগ, রাত আনুমানিক ৮.৩০টা থেকে ৯টার মধ্যে কলেজের কাছাকাছি একটি জঙ্গলের ধারে কয়েকজন যুবক তাঁদের উত্ত্যক্ত করে এবং এরপর টেনে-হিঁচড়ে ছাত্রীটিকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে। অভিযুক্তরা নির্যাতিতার মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার পরই নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আসানসোল মহিলা থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে। শনিবার রাতে মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে এবং অন্যান্য সূত্র ধরে পুলিশ দ্রুত ৩ জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতরা হলো— শেখ রিয়াজউদ্দিন, আপু বারি এবং ফিরদৌস শেখ। এদের মধ্যে ফিরদৌস শেখ দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের 'গ্রুপ ডি' কর্মী।

রবিবার তিন অভিযুক্তকে দুর্গাপুর আদালতে তোলা হলে তাদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর আরও দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ সোমবার সকালে আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের নাম হলো— শেখ নাসিরউদ্দিন এবং শেখ শফিকুল। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতেই মোট পাঁচ অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তদন্তের অগ্রগতিতে পুলিশের একাধিক দল বিরজা গ্রাম এবং আশপাশের জঙ্গলে ড্রোন উড়িয়েও তল্লাশি চালিয়েছে। নির্যাতিতার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনটিও অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় নির্যাতিতার সহপাঠী (যার সঙ্গে তিনি বেরিয়েছিলেন) এবং নাসিরউদ্দিন (যার মোটরবাইক অভিযুক্তরা ব্যবহার করেছিল বলে জানা যায়) সহ মোট কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষা করানো হবে এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হতে পারে। এই জঘন্য অপরাধের দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে রাজ্যের বিভিন্ন মহলে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।

No comments:

Post a Comment