উড়িষ্যার মালকানগিরিতে বাঙালি কলোনিতে ভয়াবহ হামলা: ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিল উন্মত্ত জনতা

 


নিউজ কলরব ডেস্ক: ওড়িশার মালকানগিরি জেলার মারিওড়া পঞ্চায়েতের অধীনস্থ একটি গ্রামে গত রবিবার রাতে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় এক মহিলার অস্বাভাবিক মৃত্যু কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা থেকে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে বাঙালি-অধ্যুষিত কলোনির শতাধিক ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫৫ বছর বয়সী এক আদিবাসী মহিলার মাথাবিহীন দেহ নদীতে পাওয়া যাওয়ার পর ঘটনার সূত্রপাত হয়। ওই মহিলা গত বুধবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার প্রায় ৫,০০০ উন্মত্ত জনতা রবিবার রাতে বাঙালি বসতি 'এমভি-২৬' গ্রামে কুড়ুল, তরোয়াল ও তীর-ধনুকের মতো মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

​হামলাকারীরা গ্রামটিতে ঢুকে একের পর এক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি ঘরের জিনিসপত্র, যানবাহন এমনকি গৃহপালিত পশুও। পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০ থেকে ১০০টির বেশি ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই ভয়ঙ্কর হামলার মুখে প্রাণ বাঁচাতে শরণার্থী বসতির বাসিন্দারা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন মালকানগিরির পুলিশ সুপার বিনোদ পাটিল এবং জেলাশাসক সোমেশকুমার উপাধ্যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এলাকায় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকাটিতে বিএনএস-১৬৩ ধারার অধীনে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে হলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এই ঘটনার নেপথ্যে জমি-জমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিবাদ কাজ করেছে। যদিও একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, এটি জাতিগত সংঘর্ষ নয়। মৃত মহিলার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একজনকে আটক করেছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। 

ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালি পরিবারগুলির পুনর্বাসন এবং নিরাপত্তার সুনিশ্চিতকরণের জন্য প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।



No comments:

Post a Comment