তৌসিফ মন্ডল , নদীয়া : নদীয়ার নাকাশিপাড়ায় কংগ্রেস নেতা ও তার ছেলেকে খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। স্থানীয় এবং পরিবার সূত্রে খবর, প্রদেশ কংগ্রেসের সদস্য, ও নদীয়া জেলা সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান ও তার ছেলে আবু সুফিয়ান শনিবার রাতে বেথুয়া ডহরি থেকে গাড়িতে বাড়ি ফিরছিলেন,নাগাদি রেল গেটের কাছে তাদের গাড়ি থামিয়ে দুষ্কৃতীরা এলো পাথাড়ি গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ। স্থানীয় মানুষ এবং পরিবারের লোকজন তারপরে বেথুয়া ডহরি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুজনকে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। আনিসুর রহমানের পরিবারের দাবি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাকে খুন করা হয়েছে। অভিযোগের তীর তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে।
আনিসুর রহমান নাকাশিপাড়া ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ছিলেন সেই সময় থেকে হরনগর
অঞ্চল তৃনমূল কংগ্রেসের সভাপতি জুব্বার বিরোধ ছিল। রাজ্যে পালা বদলের পর বর্তমানে জুব্বার শেখ একাধিক খুন ও সন্ত্রাসের অভিযোগে জেলে রয়েছে। তার নির্দেশেই খুন হয়েছে বলে অভিযোগ মৃতের পরিবারের। তবে এ বিষয়ে শনিবার রাত পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকায় জনদরদী এবং লড়াকু নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন আনিসুর রহমান। গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীদের হয়ে ব্যাপক প্রচার করতে দেখা যায় আনিসুর বাবুকে। তৃণমূল আমলে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তিনি একাই রুখে দাঁড়ান বলে রাজনৈতিক মহলে খবর। তবে এই সময়ে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হরনগর পঞ্চায়েত এলাকায় বেতাজ বাদশাহ হয়ে ওঠেন তৃণমূলের জুব্বার শেখ। রাজ্যে তৃণমূল সরকারের পতনের পর থেকেই চুপসে যেতে থাকে জুব্বার শেখ ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা, অপরদিকে আনিসুর রহমানের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে এলাকায়। সেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই জুব্বারের লোকেরা খুন করেছে বলে অভিযোগ মৃতের পরিবারের।
তবে আনিসুর রহমানের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও তার ছেলে আবু সুফিয়ান আইনের ছাত্র, তার আলাদা করে কোন রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না কিন্তু তাকে কেন খুন করা হলো এ বিষয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। দুষ্কৃতী হামলার সময় আনিসুর রহমানের সঙ্গেই ছিলেন ছেলে সুফিয়ান, ছেলের সামনেই বাবাকে খুন করা হয়, সে বিষয়টা চাক্ষুষ দেখে ফেলে সুফিয়ান, অপরদিকে সে আইনের ছাত্র। তাই পাঠ প্রমাণ লোপাট করতেই তাকে খুন করা হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। শনিবার আনুমানিক রাত বারোটা নাগাদ এ বিষয়ে কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।

No comments:
Post a Comment